আপনি এখানে:Homeঅ্যাডভোকেসি ও ক্যাম্পেইনক্যাম্পেইনজাতীয় পর্যায়ে সুপ্র আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা।

জাতীয় পর্যায়ে সুপ্র আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা।

মৌলিক চাহিদা নয়, স্বাস্থ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে।

img 1“আমরা সবাই হবো সচেতন; আর নয় বাহক-বাহিত রোগে মরণ”-এই শ্লোগানকে সামনে রেখে সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান-সুপ্র সারা দেশের ৪৫টি জেলার পাশাপাশি ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে গত ৭ এপ্রিল ২০১৪ সোমবার, বেলা ১১:০০ টা থেকে ১২:০০ টা পর্যন্ত শাহবাগ, জাতীয় যাদুঘরের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি’র আয়োজন করে। মানববন্ধনে বিভিন্ন সমমনা সংগঠন , সুপ্র ঢাকা ক্যাম্পেইন গ্রুপের প্রতিনিধিগণ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীগণ ঐক্য ও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য প্রদান করেন। মানববন্ধনে বক্তারা জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাতে কমপক্ষে জিডিপি-এর ৩ শতাংশ অথবা মোট বাজেটের ১০ শতাংশ বরাদ্দ দেয়ার পাশাপাশি বাজেটের সুষম বন্টন এবং বাজেট ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এবং স্বাস্থ্য খাতের বাণিজ্যীকরণ বন্ধ করার দাবি জানান। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিশ্বে বিভিন্ন সংক্রামক রোগের মধ্যে ১৭ ভাগই হচ্ছে বাহক-বাহিত। বিশ্বে ২০১০ সালে বাহক বাহিত রোগে ৬ লক্ষ ৬০ হাজার মানুষ মারা যায় যার অধিকাংশই শিশু। বিশ্বব্যাপি ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার, যাতায়াত বৃদ্ধি, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ন, কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তন, বনাঞ্চল ধ্বংস, পারিপার্শ্বিক পরিবেশের পরিবর্তন ইত্যাদি বাহক বাহিত রোগ সমূহের ঝুঁকি ও বিস্থারের অন্যতম কারণ।

বাংলাদেশে বাহক-বাহিত রোগের মধ্যে ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, কালাজ্বর ও ফাইলেরিয়া অন্যতম। অঞ্চল বিশেষে বাহক বাহিত এ রোগের প্রকোপ লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশের ১৩টি জেলায় ১ কোটি ১৩ লাখ লোক ম্যালেরিয়া রোগের ঝুঁকি বহন করছে। দেশের মোট আক্রান্তের মধ্যে ৮০ ভাগই বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলার অধিবাসী। ২০১৩ সালে ম্যালেরিয়ায় ২৬ হাজার ৮শ ৫১ জন আক্রান্ত হয় এবং ১৫ জন মারা যায়। ২০১৩ সালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয় ১৭৪৯ জন যেখানে ২ জনের মৃত্যু ঘটে। ১৯৯৫ সাল হতে দেশে কালাজ্বর রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায় এবং দেশের ৪২টি জেলায় ১২৫টি উপজেলায় এই রোগের বিস্থার ঘটে। বর্তমানে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫০০ এবং ২৬টি জেলার ১০০টি উপজেলার মানুষ এ রোগের ঝুঁকি বহন করছে। অন্যদিকে বাংলাদেশের ১৯টি জেলা ফাইলেরিয়া রোগ প্রবণ এলাকা বলে উলেস্নখ করা হয়।

img 2img 3বক্তারা আরও বলেন, বাহক-বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলে তৃণমূলের গণমানুষকে এ রোগের প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কে সজাগ করতে হবে। ঝুকিপূর্ণ এলাকায় বেশী মনোযোগী হতে হবে। বাহক বাহিত রোগ প্রবণ এলাকাকে জনস্বাস্থ্য সমস্যা এলাকা হিসেবে বিবেচনা করে বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি  বিভিন্ন বেসরকারি সেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান তথা সকলের সমন্বিত উদ্যোগ থাকা একান্ত দরকার।
সুপ্র মনে করে স্বাস্থ্যসেবা কোন সুযোগ নয়, অধিকার। তাছাড়া জনগণের স্বাস্থ্য অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করতে পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশও অঙ্গীকারাবদ্ধ। সংবিধানসহ ও অন্যান্য আনত্মর্জাতিক সনদ অনুযায়ী জনস্বাস্থ্যের উন্নতিসাধন এবং বৈষম্যহীনভাবে জনগণের স্বাস্থের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রাথমিক বাধ্যবাধকতা। সকল মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবায় সম অভিগম্যতা নিশ্চিতকরণ রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
সুপ্রসহ বিভিন্ন সমমনা সংগঠন ও সুপ্র ঢাকা ক্যাম্পেইন গ্রুপের প্রতিনিধিগণ ঐক্য ও সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য প্রদান করেন। সুপ্র’র সহযোগী সমন্বয়কারী মোঃ আরিফুল ইসলাম-এর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সুপ্র’র পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সুপ্র’র সমন্বয়কারী মোঃ শরিফুল ইসলাম, সাকেরা নাহার ও পরিচালক এলিসন সুব্রত বাড়ৈ। এছাড়া অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন ডেপ’র সভাপতি উন্নতি রাণী, গ্রীণ ভয়েসে এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির সুমন ও বাংলাদেশ  পীস মুভমেন্ট- বিপিএম এর প্রতিষ্ঠাতা প্রফেসর কামাল আতাউর রহমান।  

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে সুপ্র’র দাবিগুলো  হচ্ছে-

  • মৌলিক চাহিদা নয়,স্বাস্থ্যকে মৌলিক অধিকার হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে;
  • জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে কমপক্ষে জিডিপি-এর ৩ শতাংশ অথবা মোট বাজেটের ১০ শতাংশ বরাদ্দ দেয়ার পাশাপাশি বাজেটের সুষম বন্টন এবং বাজেট ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে;
  • সরকারের অঙ্গীকার মোতাবেক কমিউনিটি ক্লিনিকের যথাযথ বাস্থবায়ন ও তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে;
  • স্বাস্থ্য খাতের বাণিজ্যীকরণ বন্ধ করতে হবে;
  • স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে  বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ব্যবস্থা করতে হবে;
  • স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিরাজমান জনবল সংকট নিরসনে অবিলম্বে সকল শূন্য পদে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে;
  • ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সকল হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র এবং চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে;
  • পাঠ্য পুস্তকে স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সম্পর্কিত বিষয় অন্তর্ভূক্ত করা এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ব্যাপক প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে;

ফেসবুক লাইক বক্স

ভিডিও

Go to top