আপনি এখানে:Homeঅ্যাডভোকেসি ও ক্যাম্পেইনঅ্যাডভোকেসিসুপ্র আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় ৪৫ জেলার গণদাবি উত্থাপন

সুপ্র আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় ৪৫ জেলার গণদাবি উত্থাপন

‘দরিদ্রবান্ধব প্রত্যক্ষ কর নির্ভর বাজেট চাই’

img 1জাতীয় বাজেটে গণমানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন এবং বাজেটকে দরিদ্রবান্ধব করার লক্ষ্যে ২০০৩ সাল থেকে সুপ্র জাতীয় পর্যায়ে স্থানীয় দাবিগুলো তুলে এনে সরকারের কাছে গণমানুষের বাজেট ভাবনা উপস্থাপন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সুপ্র গত ৮ মে ২০১৪, বৃহস্পতিবার, বিকাল ২:৩০ মিনিটে সিরডাপ মিলনায়তন, ঢাকায় “প্রাক বাজেট (২০১৪-১৫) শীর্ষক জাতীয় আলোচনা সভা”র  আয়োজন করে। তৃণমূলের দাবিসম্বলিত ৪৫ টি জেলার দাবিসম্বলিত আলোচনাপত্র সভায় উপস্থাপিত হয়। সুপ্র পরিচিতি ও আলোচনা পত্র উপস্থাপন করেন সুপ্র সমন্বয়কারী মোঃ শরিফুল ইসলাম ও সাকেরা নাহার। উল্লেখ্য, এর আগে সুপ্র ৪৫ জেলায় প্রাক-বাজেট আলোচনা সভার আয়োজন করেছে এবং সভায় উঠে আসা গণদাবিসমুহ ই-মেইল ও ফ্যাক্সযোগে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে।

সুপ্র আয়োজিত প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এম এ মান্নান এমপি, মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এমপি, মাননীয় সদস্য, অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি; বেগম শিরিন আখতার এমপি, মাননীয় সদস্য, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি; এ্যারী সুরম্যানস, এসোসিয়েট কান্ট্রি ডিরেক্টর, অক্সফ্যাম ও জনাব ধন রঞ্জন ত্রিপুরা, পলিসি ও ক্যাম্পেইন অফিসার, অক্সফ্যাম। সভায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ আবদুল মজিদ, সাবেক চেয়ারম্যান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও  চেয়ারম্যান, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ লিমিটেড এবং  ড. এম আবু ইউসুফ, পরিচালক সেন্টার অন বাজেট এ্যান্ড পলিসি এবং অধ্যাপক, ডেভলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আরও বক্তব্য রাখেন সুপ্র নির্বাহী পরিষদ সদস্য, জাতীয় পরিষদ সদস্য ও জেলা থেকে আগত সম্পাদকবৃন্দ। এছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষক-ছাত্রসহ নানা শ্রেনী পেশার মানুষ।

img 2img 3সভায় সভাপতিত্ব করেন সুপ্র চেয়ারপার্সন মুস্তাফিজুর রহমান খান ও সঞ্চালনায় ছিলেন সুপ্র নির্বাহী পরিষদ সদস্য আবদুল আউয়াল। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সুপ্র নির্বাহী পরিষদ সদস্য ডেইজি আহমেদ। আলোচনান্তে সভাপতি সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং অংশগ্রহণমূলক, গণমুখি ও দরিদ্রবান্ধব বাজেটের দাবি রেখে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এর সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, প্রাক-বাজেট আলোচনা আরো আগে থেকে শুরু হওয়া প্রয়োজন। ডিসেম্বর থেকেই এটা হওয়া উচিৎ। করের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত জটিলতা দুর করতে হবে। সুপ্র একমাত্র সংস্থা যারা প্রত্যক্ষ কর বাড়ানোর মাধ্যমে কর ন্যায্যতার কথা বলে। তৃণমূলের চাহিদার ভিত্তিতে বা গ্রামের বাজেট তৈরীর যে মডেল সুপ্র তৈরী করেছে সরকার সেটিকে অনুসরণ করতে পারে। বাজেট ব্যয়ের ক্ষেত্রে গুণগত মান নিশ্চিত করা জরুরী বলে তিনি মনে করেন।
অক্সফ্যাম’র এসোসিয়েট কান্ট্রি ডিরেক্টর এ্যারী সুরম্যানস বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে অনেক উন্নতি হয়েছে। তিনি মনে করেন অত্যাবশ্যকীয় সেবাখাত বিশেষতঃ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বাড়ানো উচিৎ। তিনি আশা করেন সরকার নিশ্চয় সুপ্র’র সুপারিশগুলো বিবেচনা করবেন।

img 4img 5ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ তাঁর বক্তব্যে বলেন, যেখানে স্বাস্থ্যখাতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বাজেট করার কথা সেখানে স্বাস্থ্যখাতের বাজেট সবচেয়ে কম। এ অবস্থার উন্নতি ঘটাতে হবে। হাওড় অঞ্চলের জন্য শস্যবীমা চালু করতে হবে। তবে কেবল বাজেট বরাদ্দ দিলেই হবে না, এর সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও বাস্তবসম্মত মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। জেলা বাজেট হতে হবে জেলার মতামতের ভিত্তিতে।
 
জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য কাজী ফারুক আহমেদ বলেন, সুপ্র বাজেট আলোচনার যে একটা আবহ তৈরী করেছেন সেটা আমাকে খুবই অভিভূত করেছেন। এটা জারি রাখা দরকার । শিক্ষা খাতে বাজেটে অন্যান্য খাত অন্তভূক্ত করে এই খাতকে অস্পষ্ট করে রাখা হয়েছে যেটা ঠিক হয়নি। স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য আরো বেশি সরকারী হাসপাতাল স্থাপন করা জরুরী।
ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন এমপি বলেন বাজেট তৃনমূল থেকে উঠে আসা উচিৎ। জনগনের কর সক্ষমতা বাড়লেও করের আওতা সেভাবে বাড়ে নি। তিনি আরো বলেন নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির ক্ষেত্রে কর কমিয়ে দেওয়া উচিৎ। কালো টাকা সাদা করতে হলে কালো টাকার উৎস বন্ধ করতে হবে।

বেগম শিরিন আখতার এমপি বলেন, এবছর বাজেট আলোচনা দেরিতে শুরু হলেও পরের বছরের জন্য আমরা এগিয়ে থাকলাম। বাজেট বরাদ্ধ বছর শেষে ঠিকমত খরচ হলো কিনা তার জন্য বাজেট ট্র্যাকিং দরকার। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বলেন এর সুফল উপকারভোগীর বদলে অন্যদের দখলে যায়। কমিউনিটি ক্লিনিকের সুষ্ঠু মনিটরিং এর জন্য বাজেটে বরাদ্ধ থাকা দরকার। গণতন্ত্রের জন্য জবাবদিহিতা রাষ্ট্রকেই নিশ্চিত করতে হবে। যার জন্য প্রয়োজন সুশাসন। আর সুশাসন নিশ্চিত করতে মনিটরিং এর জন্য বাজেটে বরাদ্ধ থাকা জরুরি দরকার।  

img 6আলোচনা সভার প্রধান অতিথি মাননীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান এমপি তার বক্তব্যে বলেন সরকারকে ব্যবসায়ীদের সাথে বসতে হয়  এবং প্রান্তিক মানুষের  কথাও শুনতে হয়। তাই এখানে একটা আপোষ বা রফা করেই সরকারকে চলতে হয়। তবে দেশ গণতান্ত্রিক ভাবে যে এগিয়ে চলছে তার প্রমান এই ধরনের আলোচনা। সরকারকে সমালোচনা করা অবশ্যই উচিত তবে তা সঠিক পন্থায় হতে হবে। জেলা বাজেট  আসলে একটা সোনার পাথর । কার্যকর অর্থে জেলা বাজেট এটা নয়। যেখানে জেলা সরকার নেই বা জেলা রাজস্ব বলে কিছু নেই সেখানে জেলা বাজেট কথাটা অনেকটা অবান্তর শোনাবে। তাছাড়া জেলা বাজেট বাস্তবায়িত হলে জেলা দন্দ্ব শুরু হবে কিনা সেটাও একটা ভাবনার বিষয়। তিনি স্বাস্থ্য অবকাঠামো সম্পর্কে বলেন অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অবকাঠামো বেশ ভালো। তিনি আরো বলেন শিক্ষার্থীদের জন্য দুপুরের খাবার ও ইউনিফর্ম সরকার থেকে ব্যবস্থা করার চিন্তা ভাবনা চলছে। তিনি আরো বলেন অতিদরিদ্রদের সংখ্যা আরো বেড়েছে এটা নিয়ে কাজ করা দরকার।

জাতীয় বাজেট ২০১৪-১৫ কে সামনে রেখে সুপ্র’র বিভিন্ন দাবীগুলোর মধ্যে অন্যতম দাবীগুলোঃ

  • পরোক্ষ নয়, প্রত্যক্ষ কর নির্ভর কর কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা, করের বিপরিতে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যকে করমুক্ত রাখা ও  দরিদ্র ও জনবান্ধব করনীতি ব্যবস্থা চালু করা;
  • জেলা বাজেট আইন প্রণয়ন করা, জেলা পরিষদ কার্যকরের মাধ্যমে জেলা বাজেট বাজেট প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করা;
  • বাজেটের খসড়া ন্যূনতম ৩ মাস পূর্বে জনসমক্ষে উন্মুক্ত করা ও জনমত গ্রহণ করা;
  • জাতীয় শিক্ষা নীতি’ ১০ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে মোট বাজেটের কমপক্ষে ২০% ও জিডিপি-র ৬% বরাদ্দ নিশ্চিত করা;
  • চর, হাওড়, বিল ও দূর্গম এলাকাকে বিশেষায়িত অঞ্চল ঘোষনা করে সেখানে পৃথক স্কুল ক্যালেন্ডার, প্রয়োজনীয় ভৌতসুবিধাদি, ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা নিশ্চিত করণে বাজেটে বরাদ্ধ রাখা;
  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বাণিজ্যীকরণকরণ বন্ধ করা;
  • জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে কমপক্ষে জিডিপি-এর ৩ শতাংশ অথবা মোট বাজেটের ১০ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করা;
  • সরকারের অঙ্গীকার মোতাবেক কমিউনিটি ক্লিনিকের যথাযথ বাস্তবায়ন ও তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করা;
  • স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিরাজমান জনবল সংকট নিরসনে অবিলম্বে সকল শূন্য পদে নিয়োগ নিশ্চিত করা;
  • দরিদ্রদের জন্য স্বাস্থ্যকার্ড চালু বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা;
  • ভর্তুকী বৃদ্ধিসহ কৃষি বাজেট বৃদ্ধি করণ এবং ভর্তুকি উপযুক্ত কৃষকের হাতে সরাসরি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা;  
  • সরকারি উদ্যোগে প্রতি ইউনিয়নে একটি করে শস্য ব্যাংক ও শস্য গুদাম স্থাপন করা এবং প্রতি জেলা বা উপজেলায় চাহিদানুযায়ী হিমাগার ও বিশেষায়িত হিমাগার স্থাপন করা;
  • সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে জনঅংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা;
  • জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ড ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা;
  • বেসরকারি মালিকানার বাইরে এসে সরকারি মালিকানায় ও ব্যবস্থাপনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানী ও বিদ্যুৎখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির সাথে সাথে অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ;
  • প্রতিটি মন্ত্রণালয়/বিভাগের বাজেট এবং উপকারভোগীদের তথ্য জেন্ডারভিত্তিক পৃথক করার উদ্যোগ নেয়া।
সংবাদ পত্র লিংক
 ittefaq  Daily Kaler Kantho sheershanews
 Daily Sangram  banglamail24  arthosuchak
newsbookbd abnewsbd24 ruposhibnews
banglanews24 banglanews24  

ফেসবুক লাইক বক্স

ভিডিও

Go to top