আপনি এখানে:Homeঅ্যাডভোকেসি ও ক্যাম্পেইনঅ্যাডভোকেসিজাতীয় পর্যায়ে সুপ্র আয়োজিত বাজেট পরবর্তী পর্যালোচনা সভায় বক্তারা।

জাতীয় পর্যায়ে সুপ্র আয়োজিত বাজেট পরবর্তী পর্যালোচনা সভায় বক্তারা।

“আকারে বাড়লেও সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অত্যাবশ্যকীয় সেবাখাতে বরাদ্দ অপ্রতুল”

img 1দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার ব্যাপক প্রত্যাশা ও সময়ের বাস্তবতা মোকাবেলায় বাজেট আকারে বাড়লেও সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অত্যাবশ্যকীয় সেবাখাতে বরাদ্দ অপ্রতুল। পাশাপাশি বাজেট ব্যয়, ঘাটতি পূরণ এবং গুণগত বাস্তবায়ন করাই এবারের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ। রাজধানীর ডেইলি স্টার ভবনের সেমিনার কক্ষে সুপ্র আয়োজিত বাজেট পরবর্তী পর্যালোচনা সভায় বক্তারা এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। সুপ্র’র নির্বাহী পরিষদের সদস্য এমএ কাদের-এর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সুপ্র’র পরিচালক এলিসন সুব্রত বাড়ৈ ও বাজেট পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন সুপ্র’র ক্যাম্পেইন সমন্বয়কারী সাকেরা নাহার। বাজেট পর্যালোচনায় বলা হয়, বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ৬৭,৫৫২ কোটি টাকা (জিডিপি’র ৫ শতাংশ) যা মেটাতে নির্ভর করতে হবে দেশীয় এবং বিদেশী ঋণ ও অনুদানের উপর। বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে এবারও একটা মোটা অঙ্কের টাকা (১২.৪%) ব্যয় হবে ঋণের সুদ পরিশোধ খাতে। এবারও জনপ্রশাসন খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ যা মোট বাজেটের ১৫.৩%, ২য় সর্বোচ্চ খাত শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১.৪ শতাংশ বেড়ে ১৩.১% হয়েছে এবং স্বাস্থ্যখাতের মতো জনসেবাখাতে মাত্র ০.১% বাড়িয়ে ৪.৪% করা হয়েছে। অন্যদিকে কৃষির মতো দরিদ্রবান্ধব খাতে বরাদ্দ না বেড়ে বরং ৩% কমানো হয়েছে (বরাদ্দ ৪.৯%)।

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ অত্যাবশ্যকীয় সেবাখাতে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও বাজেট বরাদ্দ অপ্রতুল। ঘোষিত বাজেটে প্রত্যক্ষ কর নির্ভরতা কিছুটা বাড়লেও পরোক্ষ করের (মূলত ভ্যাট) বোঝা সাধারণ মানুষের কাঁধেই রয়ে গেছে । অবৈধ উপায়ে যাতে কেউ বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে না পারে এজন্য কঠোর মনিটরিং ব্যবস্থার সাথে সাথে কালো টাকা তৈরীর উৎস অনুসন্ধান করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কিছুটা কমলেও অনুদানের তুলনায় ঋণ গ্রহণের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রাথমিক শিক্ষার বাজেট অংকে বাড়লেও শতাংশে কমেছে, গুনগত শিক্ষা ও এমজিডি’র লক্ষ্য অর্জন বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে । স্বাস্থ্য বাজেট সামান্য পরিমাণে বাড়লেও সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সহায়ক নয়। হ্রাস পেয়েছে কৃষি বরাদ্দ যা সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়; নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে সার্বিক কৃষিজ উৎপাদনে। এডিপি’র গুণগত বাস্তবায়নই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাজেটের প্রয়োগে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় বাড়ানো দরকার এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিত পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ণ কার্যক্রম নিশ্চিত করা প্রয়োজন।  টাঙ্গাইল আদলে করা হয়েছে আরো ছয় জেলা বাজেট, কার্যকর বাস্তবায়নে প্রয়োজন কাঠামোগত সংস্কার ও জন অংশগ্রহণ। ক্ষমতা বিকেন্দী্রকৃত ও শক্তিশালী স্থানীয় সরকার গঠন করে তৃণমূল পর্যায় থেকে স্থানীয় চাহিদার নিরিখে জেলা বাজেট প্রণয়ন করতে হবে। অন্যথায় আমলাদের দ্বারা তৈরি বাজেটে স্থানীয় চাহিদা,আশা-আকাংখার প্রতিফলন ঘটবে না এবং দেশের সুষম ও প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে বাজেট বৃদ্ধি প্রশংসনীয় হলেও প্রশ্ন থেকে যায় প্রকৃত সুবিধাভোগীরা এই সেবা পাবে কিনা। অঞ্চলভিত্তিক চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য নেই জলবায়ূ বাজেটের। সফল বাস্তবায়ন সম্ভব না হলে জেন্ডার বাজেটের সুফল নারীরা পাবে না।
মানুষের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার মত মৌলিক অধিকারের বিষয়গুলো সরবরাহ ও নিশ্চিতকরণের দায়িত্ব সাংবিধানিকভাবে রাষ্ট্রের। জনসেবা খাতগুলোতে সকলের অভিগম্যতা নিশ্চিতকরণে এখাতগুলোতে বরাদ্দ বাড়ানোর জোড়ালো দাবি উঠে আসে এ সেমিনারে।

img 2img 3পর্যালোচনা সভার প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান এমপি তার বক্তব্যে বলেন, বিদ্যমান গতানুগতিক বাজেট ব্যবস্থার মধ্যেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নয়নও হচ্ছে। তবে জনগণের টাকায় যারা সেবা প্রদান করছে তাদেরকে আরো জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায় যেটা হতে পারে মোটিভেশনের অভাব। তিনি আরো বলেন রাজনীতিতে ভালো মানুষ আসতে হবে। নাগরিক সমাজকেও আরো সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। অন্য একটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন এক ফুলবাড়ি থেকেই ৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ৪০ বছর ধরে বিরতীহীনভাবে পাওয়া সম্ভব অথচ সেদিকে সংশ্লিষ্ট মহলের কোন নজর নেই।

img 4img 5সভার মুখ্য আলোচক উন্নয়ন অন্নেষণ’র চেয়ারম্যান রাশেদ আল-মাহমুদ তিতুমীর তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাজেটকে সফল করতে হলে বেশ কিছু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করতে হবে। এবারের বাজেটে ঘাটতি পূর্বের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশী তাই এই বছর মূল্যস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দ্রব্যমূল্যে। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বৈষম্য  কমাতে হলে ভোগ কমাতে হবে অথবা প্রকৃত আয় বাড়াতে হবে। কিন্তু আমাদের দেশে মূল্যস্ফীতি বাড়ার হার মজুরী বৃদ্ধি হারের চেয়ে বেমী হয় বলে দারিদ্র্য নিরসনের হার ও কমে যায়। তিনি আরো বলেন লক্ষ্যমাত্রায় প্রত্যক্ষ কর বাড়ানো হলেও পরোক্ষ কর কমেনি যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দরিদ্রদের উপর। সামাজিক নিরাপত্তা খাতের বন্টন ব্যবস্থায় নতুনত্ব আনয়নের মাধম্যে সুষম ও সমতাভিত্তিক বাস্তবায়নের পরামর্শ তিনি দেন । পরিশেষে তিনি বলেন জনগনের টাকায় যেহেতু বাজেট হয় সেহেতু বাজেটে জনগণের অংশহগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরী। এ প্রসঙ্গে তিনি মনে করেন জাতীয় সংসদের আধিপত্যবাদী বাজেট হওয়া উচিৎ।

এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোঃ আলী আশরাফ এমপি। তিনি বলেন বাজেট নিয়ে সবাইকে সচেতন করার কাজ সুপ্র ১০ বছর ধরে করে যাচ্ছে যেটা প্রশংসনীয় ও অদ্বিতীয়। তিনি আরো বলেন জনগনের ক্ষমতায়নের কথা সংবিধানেই সুস্পস্ট করা আছে। অথচ আমরা সেটা  বাস্তবায়নে খুব একটা পারিনি। জনগনকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ যদি একটু চেষ্টা করে তবে এমডিজি গোল অর্জন করা অসম্ভব হবে না। কর কাঠামোর কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন সক্ষম লোকেরা অনেকেই ট্যাক্স নেটের আওতার বাইরে আছে। তার মতে প্রায় ২ কোটি লোকের প্রত্যক্ষ করের আওতায় আসা উচিৎ।

img 6বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল মান্নান তার বক্তব্যে বলেন, বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রাথমিক ও গণশিক্ষায় বেশী জোর দিতে হবে। কৃষি বরাদ্দ কমে যাওয়ায় তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন।
এছাড়া বক্তব্য রাখেন অক্সফ্যাম’র পলিসি ও ক্যাম্পেইন অফিসার ধন রঞ্জন ত্রিপুরা। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে সভায় অংশগ্রহণ করেন সুপ্র নির্বাহী পরিষদ সদস্য হোসনে আরা হাসি, জাতীয় পরিষদ সদস্য মাধব চন্দ্র দত্ত, মতিউর রহমান, শামীমা আক্তার মুনমুন, শরীফা খাতুন, মঞ্জু রাণী প্রামাণিক, নির্মল ভট্রচার্য, এম এ ছালাম সহ সুপ্র’র নেটওয়ার্কভুক্ত ৪৫ জেলা থেকে আগত জেলা সম্পাদক, প্রতিনিধি ও জেলা প্রচারাভিযান সহায়কবৃন্দ। এছাড়া অনুষ্ঠানে নাগরিক সমাজ প্রতিনিধি, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক প্রতিনিধিসহ সুপ্র সচিবালয়ের সদস্যবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন ।

সংবাদ পত্র লিংক
 the daily star  arthoniti protidin shokaler-khabor
 the financial express-bd  bonikbarta  primenews
janatarnews24 ruposhibnews dhakarnews
banglanews24 banglamail24 arthosuchak
sheershanews thereport24 daly janata

ফেসবুক লাইক বক্স

ভিডিও

Go to top